সিরিয়ার উত্তর পূর্বাঞ্চলে এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি বাহিনী আরও ভেতরে ঢুকে পড়েছে। সিরীয় সামরিক সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনের অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি এসব অভিযান আরও দ্রুত হয়। এর ফলে রাক্কা প্রদেশ সিরীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।
এসডিএফের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আলেপ্পো ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সিরীয় সেনাবাহিনী এসডিএফের সঙ্গে চার দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। যুদ্ধবিরতি মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়। একই সঙ্গে এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে একজন সহকারী মন্ত্রীর নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ জানানো হয়।
এরপর এসডিএফ জানায়, তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। সরকারি বাহিনী আক্রমণ না করা পর্যন্ত তারা কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না বলে ঘোষণা দেয়। চুক্তি বাস্তবায়ন ও আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানে আগ্রহ প্রকাশ করে গোষ্ঠীটি। এসডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়, তারা রাজনৈতিক পথ, সংলাপ এবং আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে প্রস্তুত।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই নতুন অভিযোগ তোলে এসডিএফ। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ফারহাদ শামি বলেন, সরকারপন্থি গোষ্ঠীগুলো ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। হাসাকাহ শহরের দক্ষিণে আবিয়াদ সড়কের পাশে তাল বারুদ গ্রাম, জারকান এলাকা এবং রাক্কার কাছাকাছি স্থানে এসব হামলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কুর্দিদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, কুর্দিরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, নিজেদের স্বার্থেই লড়াই করছে। তাদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে রোববার ১৮ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা উত্তর পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণ একীভূতকরণ চুক্তির ঘোষণা দেন। এসডিএফ এতে সম্মতি জানায়। তবে চুক্তির একদিন পরই সোমবার ১৯ জানুয়ারি সরকারি বাহিনী ও এসডিএফ যোদ্ধাদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।
এই সংঘর্ষের মধ্যেই হাসাকাহ প্রদেশের শাদ্দাদি কারাগার থেকে প্রায় ২০০ আইএস বন্দি পালিয়ে যায়। সরকার এ ঘটনার জন্য এসডিএফকে দায়ী করে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল হিসেবে আখ্যা দেয়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসডিএফ ইচ্ছাকৃতভাবে আইএস বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে ভ্রান্ত তথ্য দিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তি থাকা সত্ত্বেও এসডিএফ গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কারাগার হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যাচ্ছে। তবে এসডিএফ দাবি করেছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত উপজাতীয় যোদ্ধাদের হামলার পর তারা কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারায়। সেই সুযোগেই বন্দিরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী। সরকার জানায়, ২০০ জনের মধ্যে ১২৩ জন আইএস বন্দিকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
